সিসি ডেস্ক: অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর বেতন বৈষম্য পর্যালোচনা করে সুপারিশ জানাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট ‘বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার।
বুধবার মন্ত্রিসভা পরিষদ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অর্থমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে এই কমিটি করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
এই কমিটির কার্যপরিধি হচ্ছে, জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষে অনিষ্পন্ন কেসগুলোর পর্যালোচনা, বেতন স্কেলে বৈষম্যের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষণতে এগুলো নিষ্পত্তির লক্ষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে পর্যালোচান্তে সুপারিশ প্রদান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিব এই কমিটিকে সহায়তা করবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে।
আর অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তথ্য ও শিক্ষামন্ত্রী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সদস্য হিসেবে ছিলেন।
৭ সেপ্টেম্বর সামরিক ও বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামোতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
পে-কমিশন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে পর্যালোচনা কমিটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সুপারিশ করে। এ
সুপারিশের বিষয়টি শোনার পর বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলের শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামে।
তাদের অভিযোগ নিচের দিকে পদোন্নতি কম হয়, এ দুটি বিষয় বাদ দেয়া হলে নিচের দিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকে।
বেতন কাঠামো অনুমোদনের আগে থেকেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামো সংশোধন করে সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকদের পদমর্যাদা সিনিয়র সচিবের সমমান করা, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিদের পদমর্যাদা উন্নতকরণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গাড়ি ও অন্য সুবিধা দেয়ার দাবি তুলে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাদের আন্দোলনও অব্যাহত আছে।